April 23, 2018

বাংলাদেশ বাস্তবতা এবং আইনের শাসন

555555555রায়হান আহমেদ তপাদার : বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে আইনের শাসন সামান্যই আছে। আইন মান্যতার তদারকি যাদের আইনসম্মত কর্তব্য, তারা নিজেরাই আইন অমান্যতার পুরোভাগে। কিন্তু লক্ষ করার বিষয়, আইন যারা বেশি অমান্য করে, দেশের প্রচলিত আইনের প্রতিও যাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তারাই আইন নিয়ে কথাবার্তা বলে ও শোরগোল তোলে বেশি। ব্রিটিশ ভারতে গান্ধী আইন অমান্য আন্দোলন করেছিলেন নিজেদের মতো করে ঔপনি বেশিক শাসনের বিরুদ্ধে। বিপ্লবীরাও অনেকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল আইন অমান্য করেন। লক্ষ্য যেখানে সমাজ পরিবর্তনের, সেখানে বিদ্যমান আইন ব্যবস্থা বহাল না রেখে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যও থাকে তাদের। এখন বাংলাদেশে যেভাবে আইন অমান্য হচ্ছে এটা এক ধরনের কোনো আইন অমান্য নয়। এ আইন অমান্য হল এমন জিনিস যাতে সাধারণ মানুষকে যেসব আইন মান্য করার জন্য ক্ষমতাসীন মহল হরদম উপদেশ-নির্দেশ দেয়, আইন অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা করে, সেই আইনই তারা নিজেরা অমান্য করে। অর্থাৎ আইনের ক্ষেত্রে রক্ষকের দ্বারা ভক্ষকের ভূমিকা পালন।আইন অমান্য করা একটি অপরাধ, যা সর্বতোভাবে নিন্দনীয় ও বর্জনীয়। সেদিক থেকে আইন মান্যকারী, আইনের প্রতি অনুগত নাগরিক দেশের সম্পদ; আইন ভঙ্গকারী এর দায়। আইনের শাসনের প্রতি নিরন্তর সমর্থন জানানো নাগরিকের জন্য অপরিহার্য রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক কর্তব্য।মানুষের অধিকারের স্বীকৃতি থাকতে হবে আইনে এবং সংবিধানে। সঙ্গে সঙ্গে এগুলো বলবত করারও আয়োজনও থাকা আবশ্যক। এ জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আইনের যথার্থ প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়। আর বিচারিক আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হওয়া আইনের শাসনের অপরিহার্য অঙ্গ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের একটি আইনি কাঠামো থাকতে হবে। কাঠামোটি হতে হবে জনবান্ধব ও গণমুখী। তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত আইনের নিরপেক্ষ ও নির্মোহ প্রয়োগ। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ আইনের শাসনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। যেমন, গত সরকারের আমলে রাজনৈতিক হয়রানির মামলার নামে শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়; অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাত্র দুটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়।কালচার অব ইমপিউনিটি’ বা অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি, সেই সঙ্গে আমাদের সমাজে সাধারণত বিরোধী দলের দমন আর সরকারি দলের পালন দেখেই আমরা অভ্যস্ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি বড় বাধা হল আইন। প্রণয়নকারীদের আইন অমান্য করার প্রবণতা একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন ও সুষ্ঠুভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা গুরম্নত্বপূর্ণ। সঙ্গত কারণেই সংশিস্নষ্টদের মনে রাখতে হবে যে, যদি দেশ আইনের শাসনে পিছিয়ে থাকে তবে তা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে সংশিস্নষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্ত্মবায়ন নিশ্চিত করা। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, আইনের শাসনে বিশ্বের ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একেবারে নিচের দিকে অবস্থান করছে! যা দুঃখজনক বলেই প্রতীয়মান হয় আমরা মনে করি, আইনের শাসনে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই সুখকর নয়। মনে রাখতে হবে, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নানা ধরনের সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ফলে মানুষের জীবনযাপনেও আসছে অগ্রগতির ছোঁয়া। এমন অবস্থায় যদি আইনের শাসনে দেশ পিছিয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত্ম পরিতাপের জন্ম দেয়- যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।  তথ্য মতে জানা যায়, সাধারণ মানুষের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাটালিডস এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ইনফোগ্রাফ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের শাসনে বিশ্বের ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০২। আর দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিচে রয়েছে কেবল পাকিস্ত্মান ও কম্বোডিয়া। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট রম্নল অব ল সূচকের ভিত্তিতে ডাটালিডসের এ প্রতিবেদনে এশিয়ায় আইনের শাসনের দিক দিয়ে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর। দেশটির অবস্থান ১৩তম। সিঙ্গাপুরের পরই রয়েছে জাপান। আইনের শাসনে ১১৩টি দেশের মধ্যে জাপান ১৪তম স্থানে অবস্থানে আছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক আইনের শাসনে দক্ষিণ কোরিয়া ২০তম। আর মানুষের আইনি সুরক্ষার ভিত্তিতে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বস্তুত রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুতে বাংলাদেশ একেবারে পেছনে সারিতে অবস্থান করছে। আইনের শাসনের উপস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম।ডব্লিউজেপির গবেষণা ফল বলছে, বাংলাদেশে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষমতা গণমাধ্যমের সবচেয়ে কম।মত প্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার একটি দেশে কতটা কার্যকর, তা এ সমীক্ষায় জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সমীক্ষার ফল বলছে, ৪০ শতাংশ মানুষ মনে করে, দেশের মানুষ সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার বিষয়ে ভয়ভীতি ছাড়া দ্বিমত পোষণ করতে পারে। ৩১ শতাংশ মনে করে, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে সরকারি নীতির বিরোধিতা করতে পারে। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ মনে করে, গণমাধ্যমগুলো নির্ভয়ে সরকারের বিরোধিতা করতে পারে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করলেও পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ জন্য পুলিশ কতখানি আইনের অধীনে আছে, তা জানতে চেষ্টা করেছে ডব্লিউজেপি। দেখা গেছে, বাংলাদেশের মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করে পুলিশ আইন মেনে কাজ করে। ২৬ শতাংশ মনে করে, সন্দেহভাজন আসামিদের মৌলিক অধিকার পুলিশ রক্ষা করে। আর মাত্র ১৮ শতাংশের ধারণা হলো, আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ শাস্তি পায়।এ ক্ষেত্রে বিশ্বের উদাহরণ হতে পারে নিউজিল্যান্ড। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটির শতভাগ মানুষ মনে করে তাদের পুলিশ আইন মেনে কাজ করে এবং আসামিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। আর ৯৯ শতাংশ মনে করে, আইন ভাঙলে তাদের পুলিশ সাজা পায়।দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষেরা পুলিশ বাহিনীর ৬৩ শতাংশকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করে। এরপরেই রয়েছেন আইনপ্রণেতারা। এসব দেশের মানুষ ৫৭ ভাগ সংসদ সদস্যকে দুর্নীতিবাজ বলে মনে করে। দুর্নীতি গ্রস্তদের মধ্যে এরপর রয়েছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে বিচার বিভাগের কথা বলেছেন। গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ২০১৩ সালের গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার বলছে, বাংলাদেশের ৬৪ শতাংশ মানুষ পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করে। আর ২০১২ সালে সেবা খাতে দুর্নীতি নিয়ে টিআইবির করা জাতীয় খানা জরিপে বলা হয়েছে, দেশের ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেবা নিতে গিয়ে কোনো না-কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে।রুল অব ল’ ইনডেক্স নামের ওই সূচকে বিশ্বের ১০২টি দেশের ওপর জরিপভিত্তিক ফল রয়েছে।এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত এবং উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ আইনের শাসনের সূচকে এগিয়ে আছে।  কিন্তু দেখা গেছে সূচকে শীর্ষস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। এরপরই নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের অবস্থান।এ সূচকে যুক্তরাজ্য ১২তম, যুক্তরাষ্ট্র ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। সর্বনিম্ন ১০২তম অবস্থানে আছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা। সূচকের সঙ্গে একটি প্রতিবেদনও রয়েছে। এতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো আইনের শাসনে পিছিয়ে আছে। এ সূচকে নেপালের অবস্থান ৪৮তম। এরপর ৫৮তম স্থানে শ্রীলঙ্কা, ৫৯তম স্থানে ভারত, ৯৮তম স্থানে পাকিস্তান ও ১০১তম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। সূচকে চীন ৭১তম এবং রাশিয়া ৭৫তম স্থানে রয়েছে।আমরা মনে করি, প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলো আমলে নিয়ে বাংলাদেশকে কীভাবে আইনের শাসনের দিক থেকে এগিয়ে নেয়া যায়, সেটি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সংকট আছে তা চিহ্নিত করে সমাধানকল্পে সার্বিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে হবে। প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য, গত দুই দশকে পূর্ব এশিয়ার দেশ মঙ্গোলিয়া শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করেছে। দেশটির অবস্থান ৫১তম। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এশিয়ার অনেক দেশের ওপরে অবস্থান করছে এ দেশটি। সূচকে মালয়েশিয়া এবং নেপাল যথাক্রমে ৫৩ এবং ৫৮তম স্থানে রয়েছে। নেপালের পরই আছে শ্রীলংকা। দেশটি ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট রম্নল অব ল’র গত সূচকের চেয়ে ৯ ধাপ এগিয়েছে। বিশ্ব আইনের শাসন সূচকে ভারতের অবস্থান ৬২তম। এরপরই আছে ইন্দোনেশিয়া ৬৩তম। সেনাশাসনের অধীনে থাকা থাইল্যান্ড ১১৩ দেশের মধ্যে ৭১তম। থ্যাইল্যান্ডের পরই আছে ভিয়েতনাম এবং চীন। আর পশ্চিম প্রশান্ত্ম মহাসাগরীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের অবস্থান ৮৮তম। মিয়ানমার আছে ১০০তম স্থানে। ১১৩ দেশের এ তালিকার একেবারে নিচের দিকে অবস্থান কম্বোডিয়া। দেশটির অবস্থান ১১২তম। আমরা মনে করি, সামগ্রিক ভাবে আইনের শাসনে অন্যান্য দেশের পরিস্থিতিকে আমলে নেয়ার পাশাপাশি-আইনের শাসনে বাংলাদেশ কেন তলানির দিকে তার কারণ অনুসন্ধান করা জরম্নরি।  বাংলাদেশে সংবিধান আছে, আইন আছে, দণ্ডবিধি আছে, আছে কার্যবিধিও। কিন্তু এর বাস্তব প্রয়োগ নেই। সংসদ থাকলেও তার কোনো কার্যকারিতা দৃশ্যমান নয়। সর্বত্রই আইন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে গর্ববোধ ও উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে। সাধারণত পেশাদার অপরাধীরা অপরাধ ও আইন লঙ্ঘন করে উল্লাসে মেতে ওঠে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, যাদের হাতে রাজদণ্ড, দেশে সাংবিধানিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাদের দায়িত্ব তারাই এ বিষয়ে উদাসীন। এখানে আইন, রাষ্ট্র, সংবিধান ও আইনের শাসন উপেক্ষিত প্রায়।সংবিধানে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার শুধু স্বীকৃতই নয়, বরং মৌলিক অধিকার। আমাদের সংবিধানেও চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।এই নাগরিক অধিকার একটি সর্বজনীন বিষয়। নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে অধ্যাপক লাস্কি বলেছিলেন, অধিকার সমাজজীবনের সেসব অবস্থা যা ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। শাসনকাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও জনমতের কোনো মূল্যায়ন করছে না। রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হলেও সরকার সে অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে। সংবিধানের ৩৭ ধারায় বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় জনমত অতীব গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের দেশে তা পুরোপুরি উপেক্ষিত। যদিও তা সুশাসনের জন্য খুবই জরুরি।একই সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উদ্যোগ গ্রহণেরও বিকল্প নেই। কেননা এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, যে কোনো অর্জন বা অগ্রগতি তখনই সফলতা বয়ে আনবে- যখন দেশ আইনের শাসনেও এগিয়ে থাকবে।

লেখক ও কলামিস্টraihan567@yahoo.com

 

সর্বশেষ সংবাদ