February 20, 2018

রোহিঙ্গাদের অনিশ্চিত যাত্রা

FB_IMG_1460307876177-2রায়হান আহমেদ তপাদার : সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের যে কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবায়ন যেমন সহজ নয়, তেমনি সে চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও জীবনযাপনের দিকটি সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করা হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে মিয়িানমারের হ্লা পো খাউং-এ ১২৪ একর জমির ওপর ৬২৫টি ভবন নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পে ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া হবে। এই ভবন কবে নাগাদ শেষ হবে তাও আপাতত বলা যাচ্ছে না। মিয়ানমারে যারা ফিরতে ইচ্ছুক কেবল তারাই ঐ ক্যাম্পে স্থান পাবে। তবে যারা ফিরতে চাইবে তাদের মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিতকরণের পর গ্রহণ করা হবে। চুক্তিতে বলা হয়নি, তারা কী স্থায়ী না অস্থায়ী বাসিন্দা হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাছাড়া প্রবাসী রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে আরও জানা যায়, তাদের কোন জন্ম সার্টিকেট দেয়া হয় না, তাদের জন্ম নিবন্ধন করা হয় না, কোন আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট দেয়া হয় না, সরকারী স্কুলে পড়তে দেয়া হয় না, সরকারের বিনা অনুমতিতে তারা বিবাহ করতে বা সন্তান জন্ম দিতে পারে না। অন্যান্য সব ধরনের মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে তারা সম্পূর্ণ বঞ্চিত। সুতরাং সমঝোতাচুক্তি মোতাবেক রোহিঙ্গারা নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করে মাতৃভূমিতে ফেরৎ যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু বাস্তবসম্মত তা সহজে অনুমেয়। এ ছাড়া যারা ফেরত যাবে তারা যে নাগরিকত্ব পাবেন বা নিরাপদে থাকবেন বা তাদের প্রতি যে মানবিক আচরণ করা হবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই।তাছাড়া বিষয়টি যে কত দীর্ঘমেয়াদী তা অনুমান করাও কঠিন।রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী সঙ্কটে রূপ নিতে যাচ্ছে তা বাংলাদেশ সরকার ও প্রবাসী দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীরা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছে।বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে এই সঙ্কট থেকে উত্তোরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই সমঝোতা চুক্তির শর্তাবলীর মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে তেমন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। যেজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের নিধননীতি বন্ধকরণ ও বিতাড়িত রোহিঙ্গারা যাতে তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারের ফেরত যেতে পারে সে পরিকল্পনা নিয়ে দেশপ্রেমিক ইউরোপীয় প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১৯৭১ সালের মতো দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোচ্চার আওয়াজ তুলেছে।নানা সময়ে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ছিটেফোঁটা আলোচিত হলেও গত বছরের আগস্ট থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মিয়ানমার  সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে দেশান্তরিত করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের ওপর চলেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও উগ্রগোষ্ঠীর অব্যাহত নির্যাতন, হত্যা, নির্বিচারে গণধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও লুটপাট। সরকারী সহায়তায় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের সহায়-সম্পদ। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সহস্রাধিক গ্রাম ভস্মীভূত করা হয়েছে। জীবন রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় দশ লাখের অধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বাংলাদেশের কক্স বাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।আবার এদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু।এই শিশুদের প্রায় ত্রিশ হাজার এতিম।নির্যাততের শিকারী নারীদের গর্ভে প্রতিনিয়ত জম্ম নিচ্ছে অনেক শিশু।এখনও রোহিঙ্গা আসা বন্ধ হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশে^র একমাত্র সর্বোচ্চসংখ্যক শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশ। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এতবড় কঠিন সমস্যায় কোন সরকার পড়েনি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মানবপ্রেম, সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা ও সুচারু ব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।তারপরও রোহিঙ্গা শিবিরে বিরাজ করছে বিশুদ্ধ পানি, টয়লেট, মাথার ওপর ছাউনি, শীতবস্ত্র, শিশুদের শিক্ষার সুযোগ প্রভৃতির প্রকট সংকট। বাংলাদেশে উদ্বাস্তুশিবিরে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে প্রায় দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। সঙ্গত কারণে তাদের এই এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। সেখানে তারা মানবেতর বন্দী জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা উদ্ধাস্তু শিবির পরিদর্শন করেছেন। তারা সেখানে নীরবে চোখের পানি ফেলেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমার সরকারের মানবতাবিরোধী এই জঘন্যতম অপরাধের কঠোর সমালোচনা করেছে। জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, অপরাধীরদের শাস্তি দাবি করছে, রোহিঙ্গাদের পরিপূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে সসম্মানে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে সোচ্চার আওয়াজ তুলেছে। কিন্তু বিশ্বের কোন রাষ্ট্র বা জাতিসংঘ বা জাতিসংঘের কোন অঙ্গ সংগঠন কেউই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই জঘন্য অপরাধকে রেজুলেশনের মাধ্যমে গণহত্যা বা জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেনি বা একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে নিন্দা জ্ঞাপন করেনি।রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশী কমিউনিটি ইউরোপ নামে একটি ঐক্য ফোরাম। এর শীর্ষে আছেন ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর সিদ্দিক,কে এম আবু তাহের চৌধুরী ও ডক্টর মালেক ফোরাজি। জার্মানি,যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইতোমধ্যে জার্মান, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর কর্মতৎপরতা চলছে। এই সমবেত উদ্যোগে ২৯ নভেম্বর ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সামনে এক বৃহৎ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে দলমত নির্বিশেষে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশী প্রবাসী, অভিবাসী ও সমাজনেতা ছাড়াও অন্যান্য দেশের নাগরিক, রাজনীতিবিদ এবং ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সদস্য জনাব আমজাদ বসির ও তার সহযোগী জনাব অলিম্পিউছ রাপটিছ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য হতে দশ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন  পার্লামেন্টের স্পীকারের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এই স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ডিসেম্বর ইইউ পার্লামেন্টের প্লেনারি অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশী কমিউনিটি ইউরোপের পক্ষ্যে জার্মান শাখার ১৪ জন প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত বেলজিয়ামস্থ বাংলাদেশী, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্টদূত, ও আই সি প্রতিনিধি এবং রোহিঙ্গাদের সেবার নিয়োজিত বিভিন্ন ইউরোপিয়ান এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য, পার্লামেন্টের স্পিকার ও বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে স্কাই চ্যানেল কর্তৃক নির্মিত মিয়ানমারে ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর একটি ফিল্ম দেখানো হয়।  অপরদিকে ৫ ডিসেম্বরের মুখ্য আলোচিত বিষয়গুলো বাস্তববায়নের জন্য ১২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান কাউন্সিল পার্লামেন্ট অধিবেশনে বাংলাদেশী কমিউনিটি ইউরোপ এর ৬ জন প্রতিনিধি যোগ দেন। এটিই হচ্ছে কোন রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টে সর্বপ্রথম অধিবেশন যেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচ্যসূচিতে স্থান পায় ও এই অপরাধকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটি ইউরোপ’ তার কর্মতৎপরতাকে আরও সুশৃঙ্খলিত ও বেগবান করার নিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে আরও একটি ফিলিস্তিন সৃষ্টি হতে পারে। ফিলিস্তিনে নানা উছিলায় ফিলিস্তিনীদের তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের সম্পত্তি সরকার অধিকরণ করেছে। শত দেনদরবার ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সত্ত্বেও তারা ভিটেমাটিতে ফেরৎ যেতে পারেনি। তাছাড়া পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই যে, কোন জনগোষ্ঠীকে তাদের ভিটেমাটি থেকে একবার উচ্ছেদ করা হলে সেখানে তারা পুনরায় ফেরত গেছে।এই সঙ্কটের বিচক্ষণ সমাধান না হলে বসতি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সমস্যা ছাড়াও এটি বাংলাদেশের সাবভৌমত্বের ওপর হুমকি হতে পারে। বাংলাদেশের জম্মলগ্ন থেকেই দেখা যাচ্ছে যে, সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে দেশটি হুমকির মুখে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্ধিকী বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার মাহবুবের নিকট থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করে স্বাধীন টাঙ্গাইল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন বঙ্গভূমি প্রতিষ্ঠার গুজব প্রায় সকলের জানা। রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে অদূর ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বিভাগকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করার শুপ্ত পরিকল্পনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এমনও হতে পারে যে, পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের সীমান্তে বারংবার সন্ত্রাসী আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগ স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্রে বা পার্শ্ববর্তী কোন দেশের স¦ায়ত্তশাসিত প্রদেশে পরিণত করার অপচেষ্টাও চলতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৃহৎ শক্তি এ ধরনের পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে পারে।সব রোহিঙ্গা যে তাদের দেশে ফেরৎ যাবে এমন আশা করা যায় না। এবং যারা যাবেন তারা কত বছরের মধ্যে যাবেন তাও কারও পক্ষে সঠিক করে বলা সম্ভব না। এ অবস্থায় যদি বাংলাদেশে তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুব্যবস্থা করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশে একটি বৃহৎ অশিক্ষিত সমাজ সৃষ্টি হবে। যা দেশের জন্য আদোও সুখকর হবে না। তাছাড়া কোন মানুষ সে যে দেশেই থাকুক না কেন, শিক্ষাগ্রহণ সেই মানুষের মৌলিক অধিকার।রোহিঙ্গাদের এখনই পরিচয়পত্র দিয়ে যদি দেশের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে থাকার ব্যবস্থা করা না হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশে তাদের বর্তমান বসতি অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পরিণত হবে এবং পারিপার্শিক ও বর্হিশক্তির সহায়তায় তারা স্বতন্ত্র আবাসভূমির স্বপ্নও দেখতে পারে।সার্বিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশী কমিউনিটি ইউরোপ মনে করে যে,মিয়ানমার সরকার যে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়েছে তার ওপর বিশ্বাস রেখে সরল মনে রোহিঙ্গাদের হস্তান্তর করা আদৌ সমীচীন হবে না। সেখানে প্রথমে জাতিসংঘের শান্তিবাহিনী নিয়োগ করা অত্যাবশ্যক।আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে কোফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা।যতদিন রোহিঙ্গারা প্রত্যাবর্তন না করছে ততদিন তাদের মানবিক সাহায্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া অতি জরুরী।লেখক ও কলামিস্ট : raihan567@yahoo.com

সর্বশেষ সংবাদ