February 20, 2018

সুনামগঞ্জে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমি

15সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : পৌষ মাস শেষ হয়ে মাঘ মাস শুরু হলেও এখনো কৃষকরা তাদের জমিতে বোরো ধান রোপন করতে পারছে না। প্রতি বছরই এ সময়টাতে হাওরের জমিগুলোতে ধান রোপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতেন কৃষকরা আর রোপা জমি গুলোতে দিতে হতো পানিসেচ কিন্তু চলতি বোরো মৌসুমে জমি হতে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সেচ তো দূরের কথা জমিতে চাষই করতে পারছে না তারা। এখনো অধিকাংশ হাওরের জমিগুলোতে পানি থৈথৈ করছে।
১ পৌষ থেকে পুরো মাঘ মাস পর্যন্ত বোরো জমি চাষাবাদের সময়। এই সময় ৪০ থেকে ৪৫ দিন বয়সী ধানের চারা লাগানোতে ব্যস্থ সময় পার করেন কৃষকরা। জলাশয় শ্রেণীর জমিতে ২ মাস বয়সী চারা লাগানো হয়। বীজ বপনের সময় পার হয়ে গেলেও হাওরে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় প্রায় দেড় লাখ হেক্টরের অধিক বোরো জমি অনাবাধি রয়ে গেছে এখনো।
গেলোবছর অকাল বণ্যা এবং অরক্ষিত বাধেঁর কারণে বোরো মৌসুমে ফসল ডুবির কারণে কৃষকের সারা বছর গেছে দুর্দিনে। সেই ক্ষতি কখনো পুষিয়ে উঠতে পারবে না কৃষকরা।
এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সুনামগঞ্জের সদর উপজেলা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা ও একটি থানা মধ্যনগরসহ ১১টি উপজেলার- দেখার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, জুনিয়ার হাওর, সোনামোড়ল হাওর, খরচার হাওর, আঙ্গারুলী হাওর, কালিকোট হাওর, পাকনার হাওর, হালির হাওর, ধারাম হাওর, ধানকুনিয়া হাওর সহ বড়-বড় হাওরের ৬০ ভাগ জমিতে এখনও ব্যাপক পানি থাকার কারণে অনেক জমি এখনো অনাবাদি রয়ে গেছে। এতে বেশির ভাগ জমিতে বোরো ধান আবাদ করতেই পারছেন না কৃষকরা। তা ছাড়া জেলার অসংখ্য নদী, নালা খাল ও বিলের তলদেশ পলি পড়ে তাদের নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে ঐ সমস্ত নদী নালাগুলোতে ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় হাওরের জমির পানি নামতে পারছে না।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, অনেক জমিতেই এখনো ৬-৭ ফুট পানি জমে আছে। এখন যে সময়, তাতে আর চাষাবাদ করতে পারলেও কোনো লাভ হবে বলে মনে হয়না। সময়মতো ধান উঠানোও সম্ভব হবে না। ফলে আবারো ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বোরো মওসুমে যে সমস্ত ধানের জাতের জীবন কাল ১৫০ দিন বা তার চেয়েও কম সে গুলোর মধ্য রয়েছে ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-৪৫, ব্রি ধান-৭৪, ব্রি হাইব্রীড ধান-৩ ও ৫ এর বীজ অগ্রহায়ন মাসে প্রথম সপ্তাহে (১৫-২১ নভেম্বর) বীজ তলায় বপন করতে হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ১১টি উপজেলার ছোট বড় ১৫৪ টি হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৫ শত ৫২ হক্টর বোরো জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৬ হাজার ৬৯ হেক্টর। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ২২ হাজার ৩ শত ২৯ হেক্টর। জামালগঞ্জে ২৪ হাজার ৬ শত ৯ হেক্টর। ধর্মপাশা ৩১ হাজার ৭ শ ৯৬ হেক্টর। তাহিরপুর ১৮ হাজার ৩ শত ৩৫ হেক্টর। দিরাই ২৭ হাজার ৯ শত ৫৪ হেক্টর। শাল্লা ২১ হাজার ৯ শত ৯৯। জগন্নাথপুর ১৫ হাজার ৩৫ হেক্টর। বিশ^ম্ভরপুর ১১ হাজার ৩ শত ৩৫ হেক্টর। ছাতক ১৪ হাজার ১ শ ৯৯ হেক্টর। দোয়ারা ১৩ হাজার ৬ শত ৩৯ হেক্টর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় বোরো চাষ হয়েছে ১ লাখ প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। গত বছর বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেননা। যদি লক্ষমাত্র অনুযায়ী জমিতে চাষাবাদ হয় আর বৈরী আবহাওয়া না থাকে তা হলে সুনামগঞ্জের হাওর থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকার ধান উৎপাদন হবে।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের জামালগঞ্জ কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ জানান, হাওরের বাঁধের কাজ ঠিকমতো শুরু হচ্ছেনা। মুখ চিনে চিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে অনেকেই লিখিত অভিযোগ করলেও সিন্ডিকেটের কারণে অভিযোগ অভিযোগেই রয়ে গেলো। উপজেলা কমিটিতে যারা বাঁধের তদারকির কমিটিরতে আছে, তারাই প্রকল্প কমিটির অর্ন্তভুক্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা জানান, চলতি বছর হাওরের পানি একটু দেরীতে নামায় কৃষকদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন জানুয়ারী মাসের মধ্যেই হাওরের পানি কমে যাবে এবং কৃষকরা ঠিক তখনই জমিতে বোরো ধান রোপন শুরু করতে পারবেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে হাওর থেকে দেরীতে পানি নামছে। ইতিমধ্যে অনেক বাধেঁর কাজ শুরু হয়েছে। বাঁধ নির্মানে কোন গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ