February 20, 2018

একসময়ের প্রতিভাবান সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চুর জনসেবায় এগিয়ে যাবার গল্প

5634মাহফুজ শাকিলঃ ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ঘঁড়ির কাটায় সময় যখন সন্ধ্যা ৬টা। ঠিক তখনই হাজীপুর ইউনিয়ন অফিসের দিকে তাকিয়ে দেখা গেল কাজকর্ম চলছে। প্রিয় বড়ভাই সাংবাদিক এম মছব্বির আলীকে সাথে নিয়ে অফিস প্রাঙ্গণে পা রাখলাম। দেখলাম চেয়ারম্যান সাহেব সহকর্মীদের নিয়ে কি যেন সভা করছেন। ততক্ষণেই আমরা দুজন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের স্বাগত জানালেন। এবং বসার জন্য অনুরোধ করলেন। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আলাপচারিতায় জানতে পারলাম প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া কম্বল শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য একটি জরুরী সভার আহবান করা হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেব তার সকল সহকর্মীদের নিয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন এবং সকল সদস্যদের মধ্যে কম্বল এর পরিমাণ সুন্দরভাবে বিভাজন করলেন। এর মধ্যে দুই-একজন সদস্য তাদের পরিমাণ থেকে আরো ৪/৫টি কম্বল দাবি করলে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত কোটা থেকে তাদের সেই চাহিদা পূরণ করেন। পরে হাসি-খুশির মধ্যে সভার সমাপ্তি ঘটে। আমার জানামতে বাংলাদেশের কোথাও রাত পর্যন্ত ইউপি সদস্যদের নিয়ে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়না। সে দিক থেকে ব্যতিক্রমী হলেন হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু।

হাজীপুর ইউনিয়নের কেওলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ দেওয়ান আব্দুল বাছিত মুঠোফোনে বলেন– বর্তমান চেয়ারম্যানের সকল কাজ খুবই প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষের সেবার কাজ করার জন্য তার পক্ষ থেকে কোন ত্র“টি এখনো পাইনি। মানুষ জন্মসনদসহ বিভিন্ন সনদের জন্য চেয়ারম্যানকে নিজ কার্যালয় ছাড়াও রাস্তাঘাট- চায়ের দোকানে পেয়ে থাকলে তারা তার স্বাক্ষর নেন। বিশেষ করে বিচার ব্যবস্থায় তিনি খুবই পারদর্শী।

received_1748713435173193.jpegহাজীপুর ইউনিয়নের কাউকাপন গ্রামের বাসিন্দা নির্মাণ শ্রমিক আকবর আলী মুঠোফোনে জানান- আমাদের ইউনিয়নের বিগত দুই চেয়ারম্যানের তুলনায় বর্তমান চেয়ারম্যানের কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয়। আমাদের ১নং ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রামে ৫২০ফুট ইট সলিং করা হয়েছে এবং ৬টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। দেড় বছরে যে কাজ এই ওয়ার্ডে হয়েছে ১৮ বছরেও সেই কাজ হয়নি। আমি একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে চেয়ারম্যানের সকল ভালকাজ দেখে খুবই খুশী।

হাজীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রউফ মুঠোফোনে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কাজের বেলায় চেয়ারম্যান সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ পরিচালনা করেন। ১০টাকার কোন অনুদান আসলেও সকলকে নিয়ে সেটা বন্টন করেন। গত পরিষদের তুলনায় অনেকটা ভাল ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিষদ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি শতভাগ খুশি চেয়ারম্যানের এইসব কার্যক্রমের উপর।44

হাজিপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও আগামী ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন সৎ এবং মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নিজের মেধাকে হাজীপুর ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে উৎসর্গ করার লক্ষে ২০০৩ -২০১১ সালে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাড়িঁয়ে ছিলাম। স্থানীয় ও রাজনীতি এবং আঞ্চলিকতার কারণে ক্ষুদ্র এলাকার প্রার্থী হওয়ায় নানা ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করলেও সামান্য ভোটের জন্য নির্বাচিত হতে পারিনি। তবে বিগত পরিষদগুলো আমাকে মূল্যায়ন বা আমার মেধাকে কাজে লাগানোর কোন সুযোগ না দিলেও আমি আমার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখি। এবং তাদের পাশে ছিলাম বলে ২০১৬ সালের ৭মে’র ঐতিহাসিক এবং নির্বাচনে একজন নির্দ্বলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হই। মানুষের এই বিপুল প্রত্যাশা পূরণে বিগত দিনের পরিষদগুলো আমাকে মূল্যায় না করলেও পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানদ্বয় এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের স্বমমূল্যায়নের মাধ্যমে দল-মত নির্বিশেষে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি শহীদ মিনার ও একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের জন্য মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি।

received_1748709438506926.jpegমানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তাঘাট এর উন্নয়নসহ হাজীপুরের সার্বিক কল্যাণে সকলকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। মনুনদী ভাঙ্গন, রাস্তাঘাটের সমস্যা, বাজার সমস্যা, ইলেক্ট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের মাধ্যমে এলাকার দুঃখ দুর্দশার সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেছি। ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান হওয়া আমার এখন বড় লক্ষ্য নয়। আমার লক্ষ্যে যে কয়দিন দায়িত্বে আছি ঘুষ-দূর্নীতিমুক্ত বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা। দলমত নির্বিশেষে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করা। ধর্মীয় প্রতিষ্টানের উন্নয়ন, সুন্দর সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীতে দরিদ্র মানুষকে নিয়ে আসা। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো আমার মূল লক্ষ্য। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন। হাজীপুরে আইন-শৃঙ্খলা এখন অনেকটা ভাল। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া। এখন আর চুরি, ডাকাতি হয়না। মানুষ পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। মানুষ এখন তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে কোন কাজের জন্য আসলে যাতায়াত ভাড়া, আপ্যায়ন বা অন্য কোন কারণে নগদ অর্থ দিতে হয়না। আমি নিজে অনেক কষ্ট করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তুু আমার জনগণকে আমি কোন কষ্ট দেইনা। এটা নিদ্বির্ধায় বলতে পারবো। ৫বছর পর জনগণই মূল্যায়ন করবে আমার কর্মের। এটা তাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

received_1748712715173265.jpeg

হাজীপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন- তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামীণ সড়ক  কাদামুক্ত করার জন্য ইটসলিং করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আলীপুর, সুলতানপুর, ভূইগাঁও, পাইকপাড়া, কেওলাকান্দি, পাবই, হাজীপুর, কাতাইরপার, চানগাঁও, কটারকোনা, উত্তরবাড়ই গাঁও, পালপাড়া, হরিচকপুর, দক্ষিণবাড়ই গাঁও, বাসুরী, কাউকাপনসহ বিভিন্ন স্থানে ইটসলিং করা হয়েছে ২০০ থেকে ৫০০ফুট পর্যন্ত। মাননীয় সংসদ সদস্যর মাধ্যমে রজনপুর, চৌসাইনা, কেওলাকান্দি এলাকায় পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ২কিলোমিটার। কটারকোনা, কাউকাপন, দেওয়ানদীঘি সড়ক প্রায় সাড়ে ৩কিলোমিটার মেরামত করা হয়েছে।

বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন– শালিস বিচারে একের পর এক দীর্ঘদিনের সমস্যা নিষ্পত্তি হচ্ছে। বেশিরভাগই জমিজমা সংক্রান্ত। এছাড়াও পারিবারিক কলহ নিরসন করা হচ্ছে। মানুষ এখন বিনা টাকায় আইনের আশ্রয় পাচ্ছে। সমস্যার সমাধান পাচ্ছে অতি সহজেই। পরিষদ পরিচালনায় প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বভাবাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সকলকে সাথে নিয়ে বিগত পরিষদের  চেয়ারম্যানদের যৌক্তিক পরামর্শ গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দলীয়তা এবং ব্যক্তি পছন্দে নয় মানুষর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা  করে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, পরিত্যক্তা, গর্ভবতী ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফসি ভাতা দেয়া হচ্ছে । আব্দুল বাছিত বাচ্চু একাধারে সাংবাদিকতা, এবং জনসেবার পাশাপাশি একজন সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং একজন সফল রাজনীতিবিদ বটে।

634

রাজনীতি ও সমাজকর্মঃ ১৯৯৪-৯৫ সালে তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এবং পরবর্তীতে তিনি একই বছর মৌলভীবাজার সদর পূর্বাঞ্চল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ২০১০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব এর দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজিপুর ইউনিয়নের সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে সাধনপুর জুনিয়র হাই স্কুল বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মূখ্য প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে সন্ধানী সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে মাতারকাপন ফ্রেন্ডস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৯৪-৯৫ সালে মৌলভীবাজারের একমাত্র শিশির সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এর দায়িত্ব পালন করেন। এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৭মে’র নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং  ২০১৭ সালে হাজিপুর উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।845

সাংবাদিকতাঃ ১৯৯৭ সালে কুলাউড়ার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মানবঠিকানার প্রথম নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দৈনিক শ্যামল সিলেটের প্রথম বার্তা সম্পাদক ছিলেন। এরপর দেশের জাতীয় দৈনিক সমকাল, মানবজমিন, ভোরেরকাগজ, সকালের খবর পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল ঢাকা টাইমস সহ বেশ কয়েকটি পোর্টালের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।

756

পরিচয়ঃ কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের সাধনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল বাছিত বাচ্চু। তার পিতার নাম মরহুম আব্দুল লতিফ। মাতার নাম খয়রুন নেছা। পরিবারের ৩ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে তিনি হলেন ৬ষ্ঠ। তিনি ১৯৯৩ সালে সিলেট পাইলট স্কুল থেকে এস.এস.সি, ১৯৯৫ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ