April 22, 2018

বুুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী

indexসিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, ম্যানেজিং কমিটি গঠনে পক্ষপাতিত্ব সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় সভা সমাবেশ দেওয়াল লিখন অব্যাহত রয়েছে। ফলে এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। এছাড়াও প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানে স্বজনদের নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার এসব অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এলাকার অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেছেন। তার পক্ষপাতিত্বের কারনে বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্যতম আদর্শ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গর্ভণিং বডি কর্তৃক স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ২০১৩ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ লাভ করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি পদ পাওয়ার পর থেকেই শুরু করেন সীমাহিন দূর্নীতি। ২০১৩ সাল থেকে আজ অবধি প্রতিটি এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ড নির্ধারিত ফি এর পরিবর্তে প্রতিটি শিক্ষাথীর কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা করে ফি আদায় করে আসছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে সতত্যা পেয়ে  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেট শিক্ষা বোর্ড বরাবরে সুপারিশ প্রেরন করেন। এবারও বোর্ডের নির্ধারিত ফি এর পরিবর্তে অতিরিক্ত ফি আদায় করেন। শুধু তাই নয় তিনি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বালাগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট প্রদত্ত  বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। যা সে সময় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মিমাংসা হয়। এলাকাবাসীর পাশাপাশি গত ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ তার অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে সিলেট শিক্ষা বোর্ড বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় ধরাকে, সরাজ্ঞান করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। যা একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে কখনো শুভনীয় নয়। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয় উপস্থিত না থাকে বাইরে অবস্থান করে এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রতি মাসে টিএ/ডিএ বাবদ হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি সরকারী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের টাকা উত্তোলন করে তা বিতরণকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করেন এবং জে.এস.সি, এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশ পত্র, মার্ক সীট, প্রশংসাপত্র ও সনদ পত্র বিতরনের জন্য ৩০০ টাকা করে খরচ বাবদ বিনা রশিদে রেখে দেন। তিনি ২০১৭ সনে ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মার্ক সীট এবং ইন্টারনেট বিল বাবদ  ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। অবৈধ গাইড বই ক্রয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করে তার নির্ধারিত গাইড বিদ্যালয়ে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা তিনি উপার্জন করেন। ২০১৬ সালে আভ্যন্তরীন অডিট  কমিটি কর্তৃক ভূয়া ভাউচার ও অনিয়মসহ লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত বিদ্যালয়ের অসংখ্য গাছ কর্তন করে নিজের গৃহের ফার্ণিচার তৈরি করেন। একই সালে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কমিটির সম্মানি ভাতার কথা বলে ১৫ হাজার টাকার আত্মসাৎ করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে জে.এস.সি পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে প্রতি শিক্ষার্থীদের নিকট ৩০ টাকা করে প্রায় ৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন ঐ শিক্ষক। এলাকাবাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে ঐ প্রধান শিক্ষক তার মন মর্জি মত বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশের পরিবর্তে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান এ ব্যাপারে আলাপকালে জানান, এলাকাবাসী প্রদত্ত স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে, তবে তাদেরকে দরখাস্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দরখাস্ত দাখিলের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তফা কামাল আহমদ জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে বিধায় এখানে আমাদের হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। তবে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ