April 25, 2018

যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নারীদের

Rohinga-women

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমার সেনা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। নিপীড়িত রোহিঙ্গা নারী এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

১৫ বছরের কিশোরী খার্তুম তার যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি হওয়ার কথা সবিস্তারে জানিয়েছে। সেনা নির্যাতন থেকে বাঁচতে নৌকায় করে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল সে। এর আগে রাখাইনে সেনাদের মর্টাল হামলায় নিহত হয়েছিলো তার বাবা, মা ও এক বোন। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আসার পর দুই নারী তাকে সাহায্য করার কথা বলে নিয়ে যায়। ‘তারা আমাকে বলেছিল, তাদের সঙ্গে গেলে আমাকে দেখভাল করবে। আমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়ার কথাও বলেছিল তারা।’ কিন্তু তাকে ৩ সপ্তাহ ধরে আটকে রাখার পর এক বাংলাদেশি পুরুষের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। ওই লোক ১২ দিন ধরে তার ওপর ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতন চালায়। খার্তুম আল জাজিরাকে জানায়,‘আমি চলে যেতে চাইলে ওই লোক আমাকে হত্যা করার ভয় দেখাত।’১২ দিন পর ওই লোক খার্তুমকে ওই মহিলাদের কাছে ফেরত দেয়। শেষে তারা তাকে কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে রেখে যায়।

খার্তুমের মত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের যৌন ব্যবসায় নামাচ্ছে একটি চক্র। এ বিষয়টি সামনে এনে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আওএম) জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা নারীদের রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিভিন্ন সাহায্য বিষয়ক এজেন্সির মতে, এসব নারীকে পাচার করা হচ্ছে। বিপথে পরিচালিত করা হচ্ছে। আর এই ধারা ক্রমশ বাড়ছেই। এমনিতেই আশ্রয় শিবিরগুলোতে যৌন ব্যবসা ও যৌন দাসী বানানোর খবর প্রচলিত আছে।

দ্য সানডে টেলিগ্রাফের মতে, রোহিঙ্গা নারীদেরকে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে এ বিষয়টিতে অবগত আইওএম। যেসব দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশে শরণার্থীদের সহায়তা করছে তাদের সঙ্গে জড়িত আইওএম। আইওএমের জরুরি বিভাগের তথ্য বিষয়ক কর্মকর্তা অলিভিয়া হেডন বলেন, তারা পাচার বিরোধী কর্মকান্ড রোধে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে লিঙ্গগত সহিংসতা প্রতিরোধেও কাজ করছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সেনা হামলা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এই দফায় ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমার সরকারের বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ