December 14, 2017

টেন্ডারবাজিতে বাধা দেয়ায় যুবলীগ নেতা পিটালেন ঠিকাদারকে

131419Jubo-League-logoস্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে : খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) টেন্ডারবাজিতে বাধা দেয়ায় এক যুবলীগ নেতা পিটালেন ঠিকাদারকে। গতকাল বুধবার সিন্ডিকেটে বাধা প্রদান করায় শওকত হোসেন নামের এ ঠিকাদারকে বেধড়ক মারপিট করেছেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম খলিফা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা। তিনি কেসিসি’র একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার এবং ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির নেতা। তার বিরুদ্ধে উন্মুক্ত দরপত্রের প্রায় সব ঠিকাদারি কাজেই হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে ।

কেসিসি’র ভাণ্ডার শাখা থেকে জানা গেছে, ফিনাইল, হারপিক, অ্যারোসলসহ ১১ প্রকার দাপ্তরিক মালামাল সরবরাহ কাজের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ৩০শে অক্টোবর। গতকাল ছিল দরপত্র জমা দেয়ার শেষদিন।কিন্তু সকাল থেকে ভাণ্ডার শাখার সামনে অবস্থান নেন যুবলীগ নেতার অনুসারীরা। তারা সাধারণ ঠিকাদারদের সিডিউল জমা দিতে বাধা দেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার শওকত হোসেন বলেন, সাড়ে ১০টায় নগর ভবনের নিচে বসে সবার সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। পাশে যুবলীগ নেতা জাহিদুল খলিফা এসে বসেন। এ সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসেছিস কেন- বলেই প্রথমে চড় মারেন তিনি।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমি কোনো সিডিউল কিনিনি, জমাও দিতে আসিনি। কিন্তু তারপরও চড় মারার পর দাঁড়িয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। সবাই দাঁড়িয়ে দেখেছে। নগর ভবনের সব অফিসারের কাছে বিচার দিয়েছি, কিন্তু কেউ তাকে ডেকেও কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। এই বয়সে এভাবে মার খাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়াও ভালো ছিল।
সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতাদের কাছে এক রকম জিম্মি তারা। ছোট কোনো টেন্ডার হলেই তা সিন্ডিকেটের জন্য উঠেপড়ে লাগেন তারা। কথা না শুনলে মারধরও করেন। তাদের অত্যাচারে সাধারণ ঠিকাদাররা এক রকম অতিষ্ঠ।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম খলিফা বলেন, নগর ভবনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কাউকে আমি মারধর করিনি।

সর্বশেষ সংবাদ