January 20, 2018

সৌদিতে রাজবন্দি পাঁচ শতাধিক, বেধড়ক মারধর এবং নির্যাতনের শিকার

Saudi Crown Prince Mohammed bin Salman gestures during a military parade by Saudi security forces in preparation for the annual Haj pilgrimage in the holy city of Mecca, Saudi Arabia, August 23, 2017. Saudi Press Agency/Handout via REUTERS ATTENTION EDITORS - THIS PICTURE WAS PROVIDED BY A THIRD PARTY. NO RESALES. NO ARCHIVE.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সৌদি রাজপরিবারের ২০১ জনকে আটকের কথা জানানো হলেও আটককৃতদের প্রকৃত সংখ্যা ৫ শতাধিক। রাজ দরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থা মিডল ইস্ট আই এই খবর জানিয়েছে। তারা বলছে, আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তির ওপর বেধড়ক মারধর এবং নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মিডল ইস্ট আই জানায়, গ্রেপ্তার এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় এতোটাই বাজেভাবে পেটানো ও নির্যাতন চালানো হয়েছে যে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।

সৌদি আরবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ৪ নভেম্বর শনিবার থেকে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২০১ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। অভিযানের প্রথম দিনেই ধনকুবের প্রিন্স আল আলওয়ালিদ বিন তালালসহ ১১ জন প্রিন্সকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেল সৌদ আল-মোজেব এক বিবৃতিতে জানান, শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ২০৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও আটক রয়েছেন বাকি ২০১ জন। আটককৃতদের বেশিরভাগকেই রাখা হয়েছে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে।

তবে রাজ দরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, আটককৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে সবাইকে না হলেও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ক্লাসিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে বলে জানা গেছে। এতে কেবল তারা শরীরে আঘাত পাচ্ছেন কিন্তু মুখে আঘাতের কোনও ছাপ নেই। ফলে পরবর্তীতে যখন তারা জনসমক্ষে আসবেন তখন তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যাবে না। কতিপয় আটককৃতকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশের জন্য নির্যাতন করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্স বানদার বিন সুলতানও, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূত মিডল ইস্ট আই আরও জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্যাতনের ধরনের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদির এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশটিতে রীতিমত আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা পূর্বতন বাদশা আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক বেশি কাজ করছে। ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় মারা যান বাদশাহ আব্দুল্লাহ। এরপর সৎ ভাই সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ সৌদি আরবের বাদশা নিযুক্ত হন। অনেকের আশঙ্কা, দুর্নীতিবিরোধী এ অভিযান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার প্রচেষ্টা। ৮১ বছর বয়সী বাবা বাদশাহ সালমানের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার আগে হাউস অব সৌদের ভেতর ও বাইরের সব শত্রুকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিতে চান তিনি।মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার আটক হয়েছিলেন এমন সাত রাজপুত্রকে বুধবার রাতে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই আরও জানায়, রাজপরিবারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে বাদশার প্রাসাদে নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুবরাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ (বর্তমানে গৃহবন্দি)-এর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে সুলতান বিন আব্দুল আজিজেরও। তার ছেলেদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যুবরাজ হওয়ার আগে মোহাম্মদ বিন সালমান শপথ নিয়ে বলেছিলেন: ‘আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, দুর্নীতির মামলায় কেউ টিকতে পারবে না-সে যেই হোক না কেন। এমনকি তিনি যদি রাজপুত্র কিংবা মন্ত্রীও হন তবুও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যারা এখনও আটক হননি তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন তার জন্য তাদের প্রাইভেট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। রিয়াদের এক সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানায়, বন্ধ করে দেওয়া অ্যাকাউন্ট এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়া ব্যক্তিদের সংখ্যা আটককৃতদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। হাউস অব সৌদের এতো জ্যেষ্ঠ রাজপুত্রদের ওপর এই মাত্রার ধরপাকড় অভিযান চালানো তা কেউ ভাবেনি। আর সেকারণেই তারা পালানোর সময় পায়নি এবং ধরা পড়েছে।

সৌদি রাজতন্ত্রের আধুনিক ইতিহাসে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘটনা নজিরবিহীন। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজ পরিবারের ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। কিন্তু বর্তমানে তা ভাঙনের সম্মুখীন।

সর্বশেষ সংবাদ