April 23, 2018

তাজমহলের পর এবার হুমায়ুনের সমাধি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি

dsnewspic26oct_025আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘বাহ্ তাজ’। আর কতদিন বলা যাবে, তা নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছে দেশের অনেক নাগরিক। তাঁরা ধর্মের ঊর্ধে গিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে চান এই অপরূপ স্মৃতিসৌধটিকে। কেউ আবার প্রেমিক মন নিয়ে বড়াই করেন বিশ্বের এই সপ্তম আশ্চর্যের। কিন্তু অন্য দলের বক্তব্য, তাজমহল তৈরি করেছেন অত্যাচারী শাহজাহান। এক দলের দাবি, এখানে ছিল শিব মন্দির। এই নিয়েই বিতর্ক। কারণ যাই হোক না কেন, এমন স্থাপত্য, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের ইতিহাস, তাকে তো আর বললেই ভেঙে ফেলা যায় না। সেই তাজের সঙ্গে এবার বিতর্কের তালিকাভুক্ত হয়েছে হুমায়ুনের সমাধিও। কিন্তু কারণ এখানে অবশ্য ধর্ম নয়। উত্তর প্রদেশের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনই চান এই সমাধি ভেঙে দেওয়া হোক। এবং এই মর্মে সে রাজ্যের ‘শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড’-এর তরফ থেকে লিখিত আর্জিও জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান, ওয়াসিম রিজভি, চিঠি লিখে এই আবেদন করেন মোদীর কাছে। তাঁর মতে, ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’-এর অন্তর্গত সম্রাট হুমায়ুনের এই সমাধি ভেঙে ফেলে, সেখানে মুসলমানদের কবরস্থল করে দেওয়া হোক। কারণ হিসেবে যে কথাগুলি ওয়াসিম রিজভি চিঠিতে লেখেন, তা এই রকম—• প্রায় ৩৫ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই জাতীয় ঐতিহ্য। তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে সরকার, তার খুব কম অংশই রোজগার হয় পর্যটন থেকে।

• এটি কোনও ধর্মস্থান নয়। কোনও ধর্মাবলম্বী মানুষই এখানে পুজোপাঠের জন্য আসেন না।

• এটি আদতে একটি কবরই।

• যে পরিমাণ জমি এখানে রয়েছে, তাতে আগামী ১০০ বছর মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের কবরের জন্য অসুবিধা হবে না।

• সর্বোপরি, মুঘল রাজারা কোনওভাবেই ইসলাম ধর্ম প্রবর্তন করেনি। এবং তারা কেউ সু-শাসক ছিল না। তাই তাদের সমাধি কোনওভাবেই ‘জাতীয় ঐতিহ্য’-এর তকমার যোগ্য নয়।

অক্টোবরের ১৮ তারিখ ওয়াসিম রিজভি তাঁর লিখিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন মোদীর কাছে। তবে তার উত্তরে এখনও কিছু জানানো হয়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে।

সর্বশেষ সংবাদ