February 21, 2018

মনু নদীর ৪ স্থানে ভাঙনে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

Kulaura Monu Nodi Pic (5)স্টাফ রিপোর্টার : অবিরাম বৃষ্টি ও সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় ৪টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মনু নদীর প্রতিরক্ষাবাধে বার বার ভাঙনের জন্য স্থানীয়রা দায়ী করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো যথাসময়ে মেরামত না করায় বার বার ভাঙন দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রামে ও শরিফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর ব্রিজ  ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার দুটি স্পটে এবং রাজনগর উপজেলা কামারচাক ইউনিয়নে তেরাপাশা এলাকায় এই ৪টি স্থানে দেখা দিয়েছে বিরাট ভাঙন। ভাঙন কবলিত এলাকা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তলিয়ে গেছে শতাধিক গ্রামের আমন আর সবজি ক্ষেত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়াও আরও কয়েকটি স্পট রয়েছে মারত্মক ঝুঁকিতে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্পটগুলো স্থানীয়ভাবে লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্ঠা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ২২ অক্টোবর ভোর ৫ টার দিকে টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রাম এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাধে ১শত ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এর আগে রাত ৩টার দিকে শরিফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর ব্রিজ এলাকায় ২শত ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনকৃত এলাকা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে টিলাগাঁও ইউনিয়নের লালবাগ, আশ্রয়গ্রাম, ইসমতপুর, চানপুর, বালিয়া, সালামতপুর, ডহরাজপুর, বিজলী, শরীফপুর ইউনিয়নের কালারায়েরচর, ইটারঘাট, তাইয়ারঘাট, তিলপুর, পালকিছড়া, লালারচক গ্রামসহ দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ গ্রামের আমন ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে রোববার রাতে শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এবং রাজনগর উপজেলার তেরাপাশা এলাকায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙণের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও কুলাউড়া উপজেলার মিয়ারপাড়া এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানটি মেরামত করা হয়।

টিলাগাঁওয়ের আশ্রয়গ্রাম এলাকার তপন দত্ত, নয়ন লাল দেব জানান, এর আগে এই ইউনিয়নে নদীর অন্য স্পট দিয়ে ভেঙে ঘার-বাড়ী ও আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আগেই আরেব দফা নদী ভাঙনে আমন ধান ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, আশ্রয়গ্রাম এলাকায় বাধ ভেঙে এখন পর্যন্ত ২০ টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। আরও অনেক গ্রাম বন্যা কবলিত হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ারপাড়া এলাকা দিয়েও ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানটি মেরামত করা হয়েছে। অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্থ হয়েছে।

শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, চাতলাপুর ব্রিজ এলাকায় ভেঙে ইউনিয়নের কালারায়েরচর, ইটারঘাট ও তাইয়ারঘাট গ্রাম পুরোটা পানিবন্দি। এছাড়াও আরও ২০-৩০ টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের জন্য বারবার ধরণা দিলেও তারা এদিকে কোন নজর দেননি। এর আগে নদী ভেঙে আউশ ধানসহ ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি করেছিলো। এবার নদী ভেঙে সবজি ক্ষেতসহ পুরো ইউনিয়নের আমন ধানের ক্ষতি করেছে। মানুষ এতো ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে কি করে?
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ. মো. গোলাম রাব্বী জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে তাৎক্ষনিকভাবে টিলাগাঁও ইউনিয়নের ১শত ও শরিফপুর ইউনিয়নের ৩শত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। পানি কমলেই মেরামত কাজ শুরু হবে।

কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শণ করে জানান, মনু নদীর শরীফপুর ইউনিয়নের ইটারঘাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলেই মুলত ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরফলে শুধু শরীফপুর নয় হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে ওই স্থানের ইজারা বাতিল করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে ২য় বার ভাঙণের সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি কমলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

সর্বশেষ সংবাদ