February 20, 2018

রাজধানীতে বেকারদের সঙ্গে চলছে প্রতারণা

PicsArt_09-21-10.57.17এম. সোলায়মান : বেকার সমস্যা দেশের একটি বড় ধরনের অভিশাপ। বাংলাদেশে বর্তমানে যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করছে তা হলো বেকার সমস্যা। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বেকার সমস্যা আমাদের দেশেই বেশি। আর বেকারত্ব থেকেই বাড়ছে বিভিন্ন অপরাধজনিত কাজ। অনেক কষ্ট করে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে পার হতে হচ্ছে। প্রাইভেট কিংবা পরীক্ষার ফিসের টাকা সংগ্রহ করার জন্য বাবা মায়ের মাথার ঘাম পায়ে পৌঁছে। কারো কারো আবার জমি বিক্রয়, হালের গরু বিক্রি করে লেখাপড়ার খরচ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এত ত্যাগ স্বীকারের পরও সন্তানের পরীক্ষার শিক্ষা জীবনের ইতি টেনে চাকরির খোঁজে গেলে চোখে সর্ষে ফুল দেখতে পায়। মাস্টার ডিগ্রি সার্টিফিকেটটা তখন যেন অপ্রয়োজনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। আর এই শিক্ষিত বেকাররা প্রতারিত কিংবা চাকরীর বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের টাকা দাবির কথা শুনলে চোখে সর্ষা ফুল ফোটারই কথা।
কাজের অভাবে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন ক্রমশ: বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ বেকারত্বকে পূজি করে একটি শ্রেণি জঘন্যতম প্রতারণা ব্যবসায় মেতে উঠেছে। তারা বিভিন্ন পত্রিকায় লোভনীয়, চটকদারি এবং বাহারি বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে দেশের শিক্ষিত বেকার যুব সমাজকে আকৃষ্ট করে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে চলছে। এ সব চটকদারি বিজ্ঞানপণ/বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যাপারে আমাদের পত্রিকাগুলোরও যথেষ্ট দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু দায়বদ্ধতা থাকলেও কিছু কিছু পত্রিকা এ ধরনের বিজ্ঞাপনগুলো যাচাই-বাছাই না করে টাকার কাছে দায় এরিয়ে যায়, যা খুবই দু:খজনক। আমাদের দেশের মানুষ এখনো পত্রিকায় ছাপা অক্ষরে প্রকাশিত যে কোন সংবাদকে আল কোরান, গীতা ও বাইবেলের চেয়েও বেশী বিশ্বাস করে। একইভাবে বিজ্ঞাপণ/বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। এ কারনে এসব পত্রিকাগুলোকেও দায়বদ্ধতার দিক থেকে এসব বিজ্ঞাপণ/বিজ্ঞপ্তি প্রচারে আরো একটু সচেতন ও আন্তরিক হওয়া দরকার।
দেশের প্রথম শ্রেণির জাতীয় পত্রিকাগুলোতে শ্রেণিভূক্ত অনেক বিজ্ঞাপন দেখা যায়। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরীর লোভনীয় বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়ে থাকে। তাতে প্রার্থীদের নিজ ইউনিয়ন, নিজ থানায় কাজ করার জন্য যোগ্যতা সম্পন্ন (১) শাখা ম্যানেজার, (২) ইউনিয়ন সুপারভাইজার, (৩) অফিস সহকারি (৪) পরিদর্শক (৫) কম্পিউটার অপারেটর চাওয়া হয়। যা একেবারেই ভূয়া। এসব প্রতিষ্ঠানের আবার ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার দেয়া থাকে। মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে প্রার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে মোবাইলের মাধ্যমেই চাকরীর কনফার্ম করে। এরপর তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি পোশাক কিংবা কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে ৩,০০০/৩,৫০০ টাকা বা যার থেকে যা নেয়া যায় তা আদায় করে। পরে প্রার্থীদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরে ওই এলাকা থেকে তারা সটকে পরে। এভাবে প্রতারক চক্রটি প্রতিনিয়ত হাজার হাজার বেকারদের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় প্রার্থীদের অপহরণ কিংবা ধর্ষণের খবর পর্যন্ত পাওয়া যায়। এই ফাদে না জেনে না বুঝে বেকাররা প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন।
শিক্ষিত বেকাররা যাতে এ ধরনের বিপথে পা না বাড়ায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে। পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের বিজ্ঞাপন/বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর আগে আরও সচেতন হতে হবে। এ ধরণের প্রতারক চক্রের সন্ধান প্রশাসনকে দিয়ে সহযোগীতা করুন। মনে রাখতে হবে বেকার জনগোষ্ঠী যদি সম্পদে পরিণত না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তা সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যে মঙ্গলকর হবে না। লেখক: সাংবাদিক

সর্বশেষ সংবাদ