September 24, 2017

বড়লেখায় ছাত্রলীগ কর্মীদের গঠিত সাইকেল রাইডার গ্রুপের দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৫

21728404_1450328055093815_7359029343702950527_nআব্দুর রব : বড়লেখায় সিনিয়রিটি জুনিয়রিটি বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ কর্মীদের গঠিত একটি সাইকেল রাইডার গ্রুপের দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫ যুবক আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন এলাকায়। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জোর চেষ্টার পর অবশেষে বুধবার দুপুরে এক পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেছে। নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় কতিপয় ছাত্রলীগ কর্মীর গঠিত মোটর সাইকেল রাইডার গ্র“পের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি নিয়ে বিরোধ চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী, মামলার এজাহারসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখায় ও সিলেটে অবস্থানরত বড়লেখার কিছু যুবকের আর.আর.জেড ও এস.এফ.জেড নামের দুইটি মোটর সাইকেল রাইডার গ্র“প রয়েছে। এ দুই রাইডার গ্র“পের সদস্যের সিংহভাগই ছাত্রলীগ কর্মী। সোমবার রাতে এস.এফ.জেড গ্র“পের এক আলোচনা সভা শেষে মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে পাখিয়ালায় ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র মাশফিক আহমদের ওপর পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে দা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গ্র“পের কয়েক সদস্যসহ অজ্ঞাত যুবকরা হামলা চালায়। মোর্ট সাইকেল ভেঙ্গে ফেলে। সঙ্গীয় বন্ধু ইমরান হোসেনও আক্রান্ত হয়। দৌঁড়ে পালিয়ে তারা প্রাণে রক্ষা পায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।

পরদিন কলেজ থেকে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিবাদীরা আবারও মাশফিকের ওপর হামলা চালায়। চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাটিতে ফেলে দেশীয় অস্ত্রে পিটিয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে। এ সময় সহপাঠী ইমরান হোসেন, আলী হোসেন ও আরফাত আহমদ এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পেটানো হয়। এমনকি তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোনসেট, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। তন্মধ্যে গুরুতর আহত মাশফিককে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় গ্র“পের সদস্যদের মধ্যে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় মাশফিকের বড়ভাই অ্যাডভোকেট আশফাক আহমদ বুধবার থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিবাদীরা পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহ্ম্মাদ সহিদুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, এস.আই মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ