November 23, 2017

রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে যা পারেন

image-10811-1503175193বাংলানিউজ ডেক্স : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে রিভিউয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে রায়ের অনুলিপি চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এরইমধ্যে আইনমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর একটি প্রশ্নও দেখা দিয়েছে, তাহলো– রাষ্ট্রপতি কী পারেন। সেই প্রশ্ন সামনে রেখেই রায় পর্যালোচনার পাশাপাশি ৯৭ অনুচ্ছেদ নিয়েও চলছে আলোচনা। আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি যদি সংকট মনে করেন, তাহলে তিনি সংবিধানের ৯৭ ধারা ব্যবহার করতে পারেন।

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচাপতি তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় দখল না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকদের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

গত ১৩ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এখানে বঙ্গবন্ধু শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে কোনও একক ব্যক্তির নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি– কথাটি আছে। মন্ত্রীর মতে, ‘এই মামলায় এটা অপ্রাসঙ্গিক এবং ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফাইনালি এটা ইতিহাস বিকৃত করার সমান।’

গত ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। সংবিধানের এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উত্থাপিত হলে তাকে অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদকে দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সংশোধনী বাতিলের ফলে সেই ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরে আসে। এই কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতি। গত ১ আগস্ট এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হওয়ার পর এর পর্যবেক্ষণ অংশ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মনে করেন জনগণ ষোড়শ সংশোধনীর রায় প্রত্যাখান করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি। এখন নিশ্চয়ই সমাধান করবেন তিনি।’

সংবিধান বিশ্লেষক তুরিন আফরোজ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে সব বিষয়ে অবহিত করতেই পারেন। যদি ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে সেটাও অবহিত করতে পারেন। যদি হস্তক্ষেপ করতে চান– উনি সংকট মনে করেন কিনা সেটাই বিষয়। যদি সংকট মনে করেন, তাহলে করতে পারেন। এগুলো সবই পরিস্থিতি সাপেক্ষে ‘যদি’র ওপর নির্ভরশীল।’

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহারের ক্ষমতা ও যৌক্তিকতা রাষ্ট্রপতির আছে উল্লেখ করে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিতে পারেন। একটা শক্তিশালী অভিযোগ উঠেছে উনি (প্রধান বিচারপতি) শপথ ভঙ্গ করেছেন। এটির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। উনি যেসব কথা রায়ে উল্লেখ করেছেন, এর নব্বই ভাগ সম্পৃক্ততাহীন। এটিকে আমি ফরমায়েশি রায় বলছি। মামলার বিষয়বস্তুর চেয়ে সেগুলো যোজন যোজন দূরে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন, বিচারপতি পদ থেকে নয়।’ একজন সাবেক বিচারপতির বিষয়ে যেন দুর্নীতির তদন্ত না হয় সেটা বলেও প্রধান বিচারপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন উল্লেখ করে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, ‘একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করার কারণে তাকে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার কথাও বলা যেতে পারে। তবে ৯৭ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে তাকে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে আছে।’সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সর্বশেষ সংবাদ