November 21, 2017

পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় কমলগঞ্জের যুবক আতিকের মৃত্যু

Atik Pictureকমলগঞ্জ প্রতিনিধি: পর্তুগালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের যুবক আতিক-উর-রহমানের মৃত্যু হয়েছে। সে বড়চেগ গ্রামের আব্দুল জলিলের ছোট ছেলে। গত মঙ্গলবার দুপুরে পর্তুগালে এ দুঘটনার পর গতকাল বুধবার ভোর রাতে তার গ্রামের বাড়িতে খবরটি আসার পর পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়।
নিহত যুবক আতিক-উর-রহমান(২১)-এর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সে শমশেরনগরের আব্দুল মছব্বির একাডমী থেকে এসএসসি পাশ করে সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ২০১৫ সালে উচ্চতর শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়েছিল। গত ৭/৮ মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে সে পর্তুগাল চলে যায়। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দান করে। মঙ্গলবার তার কয়েকজন সাথীসহ একটি মাইক্রোবাসে করে বাসায় ফেরার পথে পিছন থেকে দ্রুত গতিতে এসে একটি কার তাদের মাইক্রোবাসকে আঘাত করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় আতিককে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  মাইক্রোবাসের বাকী যাত্রীরা কিছুটা আহত হলেও গুরুতর কিছু হয়নি।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বড়চেগ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত আতিকের বাসায়  স্বজনদের কান্নায় এলাকার বাতাস যেন ভারী হয়ে গেছে। আতিকের হৃদরোগে আক্রান্ত বাবা আব্দুল জলিল জানান, তিন ছেলের মধ্যে আতিক ছিল সবার ছোট। বড় ছেলে আব্দুল মোক্তাদির (৩২) সৌদি আরবে আছে। দ্বিতীয় ছেলে রহমান সজিব (২৪) ব্রাজিলে আছে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাবা আরও জানান, বাড়িতে রেখে যাওয়া তার সখের কিছু সামগ্রী  পর্তুগালে পাঠানোর জন্য দুই দিন আগে সিলেটে এক পর্তুগাল প্রবাসীর বাসায় দিয়ে আসা হয়। তার আগেই ছেলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে। তার সখেল সামগ্রী সে পেলো না।
আব্দুল জলিল জানান, যুক্তরাজ্যে তার এক ভাই (আতিকের চাচা) আছেন। তিনি ঘটনার খবর পেয়ে বুধবারই যুক্তরাজ্য থেকে পর্তুগাল চলে গেছেন। তিনি সেখানে সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন।

সর্বশেষ সংবাদ