September 24, 2017

এইচএসসির ফলাফলে পিছিয়ে : মৌলভীবাজার শিক্ষকদের বাণিজ্যিক মনোভাব

moulvibazar-trancing-4-1হোসাইন আহমদ : এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার জেলা। ক্রমান্বয়ে নানা কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে ফলাফলে পিছিয়ে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী এ জেলা। এনিয়ে এজেলার শিক্ষাবীদ, অভিবাবক ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। তারা বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব, সময়মতো ক্লাসে না আসা, বাণিজ্যিক মনোভাব, কোচিং বাণিজ্য এবং এক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ক্লাসের সময় ফাস্ট ফুডের দোকানে বসে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার, সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধারণার অভাব এবং ক্লাসে অমনযোগীসহ বিভিন্ন কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে। যার ফলে মেধাশূন্য হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এ অঞ্চল পিছিয়ে পড়ছে। এতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শিক্ষাসহ চাকরি’র ক্ষেত্রে অনেকটা মৌলভীবাজার পিছিয়ে পড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেন তারা। এবার মৌলভীবাজার জেলায় ১৪ হাজার ২শ’ ৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ৯ হাজার ৪শ’ ৭ জন। এদের মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ৪ হাজার ১শ’ ৩জন ও মেয়ে শিক্ষার্থী ৫ হাজার ৩শ’ ৪ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৩ জন। জানা যায়, ২০১৬ সালে ৬০ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০১৪ সালের ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মেধা তালিকায় মৌলভীবাজারের ৫টি কলেজ স্থান অর্জন করে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফলাললের সার্বিক দিক বিবেচনায় পিছিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার উল্লেখ যোগ্য কলেজগুলোর মধ্যে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে ১৪৩২-১১৯৯ জন, সরকারি মহিলা কলেজে ১৩৯১-৮৫৯, শাহ মোস্তফা কলেজে ৮৬৪-৪২০জন, বড়লেখা ডিগ্রী কলেজে ৬২৫-৩৪৫ জন, কমলগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে ৬৬৪-৩৩৫ জন, কুলাউড়া সরকারি কলেজে ৬০২-২৯৯ জন, রাজনগর সরকারি কলেজে ৪৪৭-১৯৬ জন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে ১১৪৬-১০৩০ জন ও জুড়ী ডিগ্রী কলেজে ৮৩৯-৫৩৪ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। পর্যালোচনায় দেখা গেছে জেলা শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো ফলাফল করেছে। বড়লেখা নারী শিক্ষা একাডেমীতে কতজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে জানতে অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলতে পারেননি। এবিষয়ে মৌলীভাবাজারের সচেতন মহল মনে করেন, শিক্ষকরা যদি আন্তরিকতা সহিত দায়িত্ব পালন করেন এবং অভিবাবকরা সচেতন হন তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রে এজেলা আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে ।

সর্বশেষ সংবাদ