November 24, 2017

কমলগঞ্জের ছলিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত

Pic--Solimgonj GPSবিশ্বজিৎ রায় : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ছলিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের প্রায়ই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে ২৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণি কক্ষ রয়েছে মাত্র ২টি। তার মাঝে একটি কক্ষের অর্ধেকে চলছে অফিসের কার্যক্রম। পুরাতন বিল্ডিং একটি কক্ষে পাঠদান হলেও টিন ছিদ্র হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। ঝুঁকিপুর্ণ একটি কক্ষে জুড়াতালি দিয়ে চলে একটি শ্রেণির পাঠ দান। শ্রেণি কক্ষের সংকটের কারনে চলছেনা পাক প্রাথমিকের পাঠ দান। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে জানানোর পরেও কোন কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করছেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৫৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের মূল গৃহ নির্মাণ করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এলজিইডি’র অর্থায়নে এই বিদ্যালয়ে ৩ কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের ৩টি কক্ষের মধ্যে একটি অফিস ও অন্য ২টি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯২ জন। নামমাত্র ৩টি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও পুরাতন ভবনের একটিমাত্র শ্রেণিকক্ষে টিনের চালা ছিদ্র ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় ক্লাস করানো যায় না। আর কাঠের চাল উইপোকায় নষ্ট করায় এখন মেরামতযোগ্যও নয়। টিনের চাল ভেঙ্গে যেকোন সময় প্রাণহানীর আশংকা করছেন এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের একমাত্র কক্ষে টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়াসহ ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ২ বছর পূর্বে মৌলভীবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শ্রেণিকক্ষ বাড়ানোসহ অবকাঠানো উন্নয়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সুপারিশ করেছেন। সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে গেলে এসএমসি সভাপতি মো: কামরুল হাসান চৌধুরীসহ স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানান, বিদ্যালয়টির করুন অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবগত থাকলেও অদৃশ্য কারণে প্রায় ২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে নতুন ভবন নির্মাণ হচ্ছে না। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক। অথচ শহর ছাড়িয়ে অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। তারা জানান, বিদ্যালয়ের সম্মুখে বিশাল পুকুর রয়েছে। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে এখানে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রয়োজন। এছাড়া বিদ্যালয়ের টয়লেটও প্রায় অকেজো হয়ে পড়ছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে প্রায়ই খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষক মো: আসিক মিয়া জানান, বিদ্যালয়ে তিনিসহ ৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও স্কুলভবনে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় পাঠদান বিঘœ হচ্ছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের অভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে বসতে হচ্ছে। শ্রেণি কক্ষ না থাকায় এই বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের কক্ষ সজ্জ্বিতকরণ হয়নি। শিক্ষা অনুপাতে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শ্রেণি পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।  তিনি জরুরী ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, জরুরি ভিত্তিতে এই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা বলেন, এই বিদ্যালয়ের অনেক জায়গা বেদখল আছে। এগুলো জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার করা প্রয়োজন। তিনি আগামী এলজিএসপি’র বরাদ্ধ আসলেই ছলিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত যাতে না হয় সেজন্য তিনি দ্রুত সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সর্বশেষ সংবাদ