November 21, 2017

মাদক পাচার রোধে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে :প্রধানমন্ত্রী

1500577590বাংলানিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, তার সরকার দেশে মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইয়াবা চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা এখান থেকেই মাছ ধরা নৌকাতে করে ইয়াবা মাদক পাচার হয়। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অসংক্রমণ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর এনসিডি কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন’র একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর এনসিডি কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন’র সভাপতি এবং জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক ১০ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এসময় রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর এনসিডি কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন’র সদস্যরা সরকারের সঙ্গে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ যেমন হূদরোগ, ডায়াবেটিস এবং মানসিক রোগ নিরাময়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলে বিষয়টি আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপেরও তথ্য এ সময় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই স্বাস্থ্য সেবার আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে চিকিত্সা ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নত যন্ত্রপাতির সন্নিবেশন ঘটায়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, কাজী রফিকুল আলম, অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, অধ্যাপক কাজী দিন মোহাম্মদ, ডা. আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক মোল্লা ওবায়দুল্লাহ বাকী এবং অধ্যাপক এ কে এম মহিবুল্লাহ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা থাকতে হবে

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৃহীত মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্প্রসারণের দুটি প্রকল্পের নকশা উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্প দুটি হচ্ছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালসমূহের উন্নয়ন এবং সরকারি কলেজসমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ-শীর্ষক প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত- শের-ই-বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (নারী শিক্ষা মন্দির) এবং শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ সদর, গোপালগঞ্জ- শীর্ষক প্রকল্প। সকালে তার কার্যালয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির নকশা উপস্থাপন করা হয়। প্রথমটি ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার এবং দ্বিতীয়টি এক হাজার ৮০৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা নকশা দুটি উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী স্লাইড দেখেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, উন্মুক্ত বারান্দা, জরুরি বহির্গমন পথ, ফায়ার এ্যালার্ম ইত্যাদির অবশ্যই ব্যবস্থা থাকা উচিত। এসব সতর্কতামূলক এ্যালার্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেটগুলোতেও থাকা উচিত বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘একনেক’র সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হয়।

সর্বশেষ সংবাদ