September 24, 2017

চুনারুঘাটে সরকারি রাস্তা কেটে বৃক্ষ রূপন,এক দম্পতিকে জেল-জরিমানা

jrmnaচুনারুঘাট প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলায় আহমাদাবাদ ইউনিয়নে গেড়ারুখ-জারুলিয়ায় সরকারী রাস্তা কেটে ও মধ্যস্থলে গাছ রুপন করে জনচলাচল বন্ধ করার অপরাধে এক দম্পতিকে ১ মাসের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ।

শুক্রবার দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনিরার নিকট এলাবাসীর পক্ষে সফিকুল ইসলাম অভিযোগ করলে তৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এ রায় প্রদান করেন ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দু-মাস আগে থেকে রাস্তায় কোদাল দিয়ে চার বার মাটি কেটে জনচলাচলের পথ বন্ধ করে দেন উপজেলার গেরারুক গ্রামের মৃতঃ মরম আলী জমাদারের মেয়ে মিনারা খাতুন (৪০) ও তার স্বামী গাদিশাল গ্রামের মৃতঃ রুস্তম মিয়ার পুত্র কাজল মিয়া (৫০)।
এদিকে বিষয়টি সুরহা লক্ষ্য স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ মুরুব্বিয়ানরা একাধিক বার সালিশ-বৈঠকে ব্যর্থ হলে গত ৫ জুলাই এলাকাবাসীর পক্ষে গেরারুক গ্রামের হাজী আঃ রশিদের পুত্র শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন।

এর প্রেক্ষাপটে চলিত মাসের ১৮ জুলাই বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজাম মুনিরা ওই দম্পতি কে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই রাস্তায় কোন প্রকার গোলযোগ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেন।

ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশ অমান্য করে পরের দিনই অর্থাৎ ২০ শে জুলাই মিনারা ও তার স্বামী কাজল মিয়া ওই রাস্তায় একশো মিটারে বেড়া দিয়ে দেয় এবং শতাধিক গাছের চারা রোপন করে। এদিকে তিন হাজার জনসাধারণের চলাচলের গ্রামীণ পথটি বন্ধ হয়ে যায়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকাবাসীরা চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় কে অবহিত করলে তিনি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে মিনারা ও তার স্বামীকে রাস্তা বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। একপার্যে প্রশ্নবার্ণের প্রেক্ষাপটে ঔই দম্পতি কোন সুউত্তর না দিয়ে বরং উত্তপ্ত-বাক্যপ্রবাহ শুরু করেন।

এ সময় চুনারুঘাট থানার এসআই সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই দম্পতিকে আটক করলে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজাম মুনিরা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে দম্পতির উভয়কে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং রাস্তাটিকে পূনরায় জন-যান চলাচলের উপযোগী করে দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে চারজন পথচারি জানান, গত দুমাস ধরে ওই দম্পতির আচরণে অতিষ্ঠ ছিলাম । বাড়ি-ঘরে যাওয়া দুরুহ ছিলো। যাক স্যারের দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় এখন আসা-যাওয়া সম্ভব হয়েছে । তাকে বিনম্র হৃদয়ে অভিবাদন জানাচ্ছি।

সর্বশেষ সংবাদ