November 23, 2017

লাউয়াছড়া থেকে আগর গাছ কেটে নেয়ার চেষ্টা

Agor Tree Kamqlgon 1বিশেষ প্রতিনিধি : গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতরের বন গবেষনাগারের সামনের একটি বড় আগর গাছের উপরাংশ কেটে নিয়েছিল গাছ চোর চক্র। শুক্রবার ০৭ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটায় ২০ সদস্যের একটি সশস্ত্র গাছ চোরচক্র বন গবেষনাগারের এক কর্মীর বাসায় দরজা জানালার কাঁচ ভেঙ্গে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পরে বনকর্মীকে জিম্মি করে প্রায় ৬০ ফুট লম্বা  আগর গাছটি কেটে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। এ সময় খাসিয়া পরিবার সদস্য ও বনকর্মীদের ধাওয়ায় কেটে নেওয়া আগর গাছটি রেলপথের সামনে ফেলে পালিয়ে যায় গাছ চোর চক্রটি।

বন বিভাগ (বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রকৃতি সহ-ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ও লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ২০ সদস্যের একটি সশস্ত্র গাছ চোর চক্র লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে। গাছচোরচক্রটি বন গবেষনাগারের সামনের বন গবেষনাগার কর্মী মহিউদ্দীন মোল্লার কক্ষের দরজা জানালার কাঁচ ভেঙ্গে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বনকর্মী মহিউদ্দীন জেগে উঠলে গাছচোর চক্রটি তাকে জিম্মি করে গবেষনাগারের সামনের পূর্বে উপরাংশ কেটে নেওয়া আগর গাছটি কেটে নেয়। এসময় রাত্রীকালীন পাহারাদার খাসিয়া ও বনকর্মীরা টের পেয়ে পুঞ্জি থেকে ডেকে অতিরিক্ত খাসিয়া সদস্যকে এনে গাছ চোরদের ধাওয়া করা হয়। ধাওয়া খেয়ে গাছ চোরচক্রটি জাতীয় উদ্যানের ভিতর রেলপথ এলাকায় কেটে নেওয়া আগর গাছের ৭টি খন্ডাংশ ফেলে পালিয়ে যায়।

লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী, খাসিয়া ছাত্র নেতা সাজু খাসিয়া জানান, খাসিয়া সদস্যরা পুঞ্জি থেকে আরও খাসিয়া সদস্যকে ডেকে না আনলে ও বনকর্মীদের সাথে নিয়ে ধাওয়া না করলে কেটে নেওয়া আগর কাছটি নিয়ে যেত চোরচক্র। তারা ছিল সশস্ত্র ও ভয়ানক। তাদের সামনে খালি হাতে ও অল্প সংখ্যক লোক দিয়ে প্রতিরোধ করা সহজ নয়। এতে প্রাণ নাশেরও হুমকি থাকে। খাসিয়া হেডম্যান ও খাসিয়া ছাত্রনেতা আরও বলেন, গত ১৩ জুন রাতেই এ চক্রটি খাসিয়া পুঞ্জির সামনের আগর বাগান থেকে একটি আগর গাছ কেটে নিতে চেষ্টা করেছিল চোর চক্র। সে রাতেও খাসিয়ারা ধাওয়া করায় সে গাছটি ফেলে চোর চক্র পালিয়ে গিয়েছিল। এখন লাউয়াছড়া আগর বাগানের দিকে কু-নজর পড়েছে সশস্ত্র গাছ চোরচক্রের। তা রক্ষা করতে হলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বলে খাসিয়ারা জানান।

মৌলভীবাজারের সহকারী বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রকৃতি সহ-ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মো: তবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বনকর্মী ও খাসিয়ারা ধাওয়া না করলে কেটে নেওয়া আগর গাছ উদ্ধার করা যেত না। রেলপথ এলাকা থেকে ৭ খন্ডাংশ আগর গাছ উদ্ধারের কথা স্বীকার করে সহকারী বন সংরক্ষক বলেন, কমলগঞ্জের একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গাছ চোর চক্রের কারণে গাছ রক্ষা বন বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় শতাধিক গাছ চোর জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে। সেখানে স্বল্প জনবল নিয়ে তাদের প্রতিহত করা কঠিন ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, কারা এ কাজটি করছে তা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে শুরু করে প্রশাসনও জানেন। সুতরাং তাদের প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করতেই হবে। এ চক্রটির কারণে জাতীয় উদ্যান আজ বিপন্নপ্রায়।

সর্বশেষ সংবাদ