December 14, 2017

নিউ ইয়র্কে মানবপাচার ও নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশি কূটনীতিক অভিযুক্ত

69755_shahedul1বাংলানিউজ ডেস্ক : মানবপাচার ও কাজের লোককে বেতন না দিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করানোর অভিযোগে সোমবার নিউ ইয়র্কে অভিযুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামকে। এ কথা বলেছেন নিউ ইয়র্কের একজন প্রসিকিউটর। ওই কূটনীতিকের কূটনৈতিক দায়মুক্তির সীমিত সুযোগ রয়েছে। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি রিচার্ড ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, শাহেদুল ইসলাম কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ডানিয়েল লুইসের সামনে হাজির হলে তাকে পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার জামিনের জন্য ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা ২৫ হাজার ডলার নগদ অর্থ ধরা হয়েছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে ১৫ বছর জেল দেয়া হতে পারে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজের ও পরিবারের জন্য বাসার কাজ করানোর জন্য ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশি মোহাম্মদ আমিন নামে একজনকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যান শাহেদুল ইসলাম। এ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে ‘মোহাম্মদ আমিন নিউ ইয়র্কে তার বাসায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম। তাকে দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করান। এমনকি ক্ষতিপূরণের জন্য চুক্তি ছিল মোহাম্মদ আমিনের সঙ্গে। তবে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকে কাজের জন্য কখনো কোনো বেতনই দেয়া হয়নি। মোহাম্মদ আমিন কখনো ওই কূটনীতিকের নির্দেশ অমান্য করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ওই কূটনীতিক। তিনি তাকে হাত দিয়ে অথবা জুতার মতো কাঠ দিয়ে প্রহার করতেন’। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক মুখপাত্র শামীম আহমেদ বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন আমিন এ মামলা করেছেন খারাপ উদ্দেশে। তার আনা এ অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি আরো বলেছেন, এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, আমিনের  দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকা-ের কারণে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শাহেদুল ইসলাম। আমরা আশা করি আদালত বিচক্ষণতার সঙ্গে তার রায় দেবেন। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, আমিনের যে আয় তা শুধু এসেছে বিভিন্ন পার্টির অতিথিদের উপহার থেকে। তাই তিনি বাংলাদেশে পরিবারের কাছে খুব সামান্য অর্থই পাঠাতে পেরেছেন। অনেকবার আমিন চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছেন। এ সময় তাকে প্রহার করেছেন শাহেদুল ইসলাম। হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশে তার মাকে ও ছোট ছেলের ক্ষতি করার। একবার আমিনকে হুমকি দিয়েছিলেন শাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেছিলেন, আমিন যদি একজন চাকরের মতো কাজ অব্যাহত না রাখেন তাহলে তার কলেজে পড়ার উপযুক্ত মেয়েকে ‘ ঝযধসবফ’ করা হবে। এখানে ইংরেজি ‘শেমড’ দিয়ে কি বুঝানো হয়েছে তা পরিষ্কার বলা হয়নি। এর অর্থ অনেকভাবে ধরে নেয়া যায়। মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় একজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে শ্রমিক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। এর অল্প কয়েকদিন পরেই শাহেদুল ইসলাম একটি চেক লেখেন। তাতে আমিনের উপার্জন দেখানো হয়। বলা হয়, এটা আমিনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেয়া হবে বেতন বাবদ। ২০১৩ সালের শেষের দিকে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানি খোবরাগাড়েকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। বলা হয়, জোর করে তিনি গৃহকর্মীকে আটকে রেখেছেন বাসায়। তাদেরকে দিয়ে সপ্তাহে ১০০ ঘণ্টা কাজ করারন প্রতি ঘণ্টায় এক ডলার হিসেবে। এ অভিযোগে খোবড়াগাড়েকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে ভারতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। দেবযানির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। কারণ, তিনি কূটনৈতিক দায়মুক্তি পেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার পর নিউ ইয়র্কের এক গ্রান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে নতুন করে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। সাবেক একজন গৃহকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি সাবেক কনসাল জেনারেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তারা ওই গৃহকর্মীকে বেতন না দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করেন। তাকে রাখা হয় দাসের মতো। গত বছর ম্যানহাটানের একজন ফেডারেল বিচারক তাদেরকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

ওদিকে বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি একজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে দিয়ে জোর করে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। বিনিময়ে ওই গৃহকর্মীকে বেতন দেয়া হয়নি। তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই কূটনীতিক মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সোমবার গ্রান্ড জুরি সামনে অপহরণ, নির্যাতন, শ্রমিক পাচার ও অন্যান্য অভিযোগ গঠন করেছেন। তাকে আগামী ২৮শে জুন আবার আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ