November 21, 2017

বাসর রাতে মেয়েটি স্পষ্ট স্বরে জানিয়ে দেয়,

FB_IMG_1486118800044– এইযে শুনুন, আমি কিন্তু

আপনাকে বিয়ে
করতে চাইনি,
,
মাসুদ বেশ ভদ্র, মার্জিত
ছেলে।
হাসিমুখে জবাব দেয়
-– হ্যা, জানতাম।
– তো বিয়ে করলেন কেন?
– -এমনি
– শুনুন, রাগাবেন না! এমনি
কোন কিছু হয় না,
.মাসুদ কি বলবে ভেবে পায়
না।
বিয়েটা ওর মায়ের ইচ্ছেতেই
হয়েছে।
মায়ের ইচ্ছের ওপর না বলতে
পারেনি।
মাসুদ চুপ করে থাকে।
ইতোমধ্যে মেয়েটি রেগে
নাকের
ডগা আর মুখ টকটকে লাল করে
বসে আছে।
.
– কি ব্যাপার! চুপ করে আছেন
কেন?
সোজাসুজি বলে দিচ্ছি, আমি
আপনাকে
ভালোবাসতে পারবো না! আর
আপনি
আমাকে মোটেও স্পর্শ করবেন
না!
.
মাসুদ হেসে মাথা নাড়ায়।
সুন্দরীদের
রাগলে বেশ লাগে। কিন্তু
মাসুদ আর
রাগাতে সাহস পায় না।
এমনিতেই যা
তিরিক্ষি মেজাজ করে বসে
আছে! মাসুদ
আস্তে করে গিয়ে নিজের
বালিশে মাথা
রেখে শোয়। দুজনেই ছাদের
দিকে চেয়ে
শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর
মেয়েটি মাসুদের
উল্টোপাশে মুখ ফিরিয়ে
শোয়। একসময়
মেয়েটি নিজ থেকেই কথা
বলা শুরু করে,
এবার কন্ঠে আর কোন রাগ নেই,
কেমন যেন
কান্নাভেজা কন্ঠস্বর,
.
– আমি একজনকে
ভালোবাসতাম!
.
মাসুদ অবাক হয়। ও জানত না
এসব।
খানিকটা অবাক সুরে বলে,
.
–-উনি কোথায় এখন?
– ও বেঁচে নেই আর!
.
বলে মেয়েটা কান্নায় ভেঙ্গে
পড়ে।
মাসুদেরও বেশ মন খারাপ হয়।
মেয়েটাকে
কি বলে যে স্বান্ত্বনা দিবে
তা ভেবে
পায় না ও। মাসুদ চুপ করে
থাকে। আর
ওদিকে মেয়েটি ফুঁপিয়ে
ফুঁপিয়ে কেঁদে
চলেছে।
.
মাসুদ নিজের হাতটা
মেয়েটির মাথার
দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় একটু,
কিন্তু আবার
হাতটা সরিয়ে নেয় কি মনে
করে ।
চুপ করে শুয়ে থাকে সে।
.
পরদিন খুব ভোরে আজানের
শব্দে ঘুম থেকে
উঠে পড়ে মাসুদ। উঠে দেখে
মেয়েটি
তখনো ঘুমিয়ে। অযু করে
ফজরের নামাজ
আদায় করে নেয় সে। তারপর
কিছুক্ষণ কুরআন
তিলাওয়াত করে। ততক্ষনে
আকাশ বেশ
ফর্সা হয়ে উঠেছে। কিন্তু
মেয়েটি তখনও
ঘুমিয়ে। মেয়েটির নাম রেহা
.
সকাল প্রায় নয়টা বেজে
গিয়েছে তখন।
মাসুদ ইজি চেয়ারে বসে একটা
উপন্যাস
পড়ছিল। হঠাৎ বিছানা থেকে
রেহার
গলার অস্ফুট আওয়াজ পেয়ে
বিছানার দিকে
তাকায়। দেখে, মেয়েটি ঘুম
থেকে উঠেছে
আর ঘোরের মাঝে কি যেন
বলছে অস্ফুট
স্বরে। মাসুদ তাড়াতাড়ি
রেহার
পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। রেহার
লম্বা চুল
মুখের উপর ছড়িয়ে আছে
এলোমেলোভাবে।
মাসুদ হাত দিয়ে চুলগুলো ঠিক
করে দেয়ার
সময় টের পায়, কপালটা ভীষণ
গরম
রেহার
মাসুদ আঁতকে উঠে! ভীষণ জ্বর
মেয়েটার!
.
তাড়াতাড়ি করে এক বালতি
পানি আর মগ এনে
রেহার মাথায় আস্তে করে
পানি ঢালে
মাসুদ। কিছুক্ষণ পর শরীরের
তাপমাত্রা
কমে যায়। রেহা উঠে বসতে
চাইলে ওর
হাত ধরে উঠে বসতে সাহায্য
করে মাসুদ।
তারপর , মাসুদ গিয়ে নিজ
হাতে বানানো
ব্রেকফাস্ট এনে রেহাকে
খাইয়ে দিতে
যায়। মেয়েটা বলে ওঠে,
,
– ব্রেকফাস্ট কে বানিয়েছে?
–আমি ( অবনত মুখে )
– খাইয়ে দেয়া লাগবেনা,
এদিকে দিন,
আমি খেয়ে নিচ্ছি
.
মাসুদ কিছু মনে করে না। চুপ
করে
রেহার কাঁপা কাঁপা হাতে
খাওয়া
দেখে অবাক চোখে। মুখ দেখে
বুঝা যায়,
মেয়েটি সারারাত ঘুমায় নি।
তবে বুকে
সূক্ষ্ণ অনুভূতি জাগানো
মায়াবী মুখ
মেয়েটার। মাসুদ অপলক চোখে
চেয়ে
থাকে।
.
মাসুদ ভেবেছিল জ্বর বুঝি
সেরে
গিয়েছে। কিন্তু সেদিন
রাত্রে শরীর
কাঁপিয়ে আবার জ্বর এলো
রেহার।
জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছে ও ।
তাড়াতাড়ি
করে রেহাকে হাসপাতালে
নিয়ে যায়
মাসুদ। মেয়েটির কষ্ট দেখে
বুকটা ভারী
হয়ে আসছে ওর। হাসপাতালে
নেয়ার পর ,
ডাক্তারের দেয়া ওষুধ
খাওয়ানোর পর জ্বর
কিছুটা কমে রেহার। কিন্তু
চোখ দুটো
খুলতেও যেন ভীষণ কষ্ট হচ্ছে
ওর।
.মাসুদ
নিজ হাতে রাতের খাবার
রান্না
করে আনে রেহার জন্য।
মেয়েটি তখনো
নিজ থেকে উঠে বসতে
পারেনি। মাসুদ
ওকে উঠে বসায়। রেহার মুখ
দেখে ভীষণ
মায়া হছে ওর। চেহারাটা
কেমন রোগা
রোগা হয়ে গিয়েছে। মাসুদ
নিজ থেকেই
রেহার দিকে খাবার এগিয়ে
দেয় নিজ
হাতে। নিশাত দুর্বল স্বরে
বলে,
.
– আমাকে দিন, আমি খেয়ে
নিচ্ছি
এবার মাসুদের মন খারাপ হয়
ভীষণ। অবনত
চোখে রেহার দিকে খাবারের
প্লেট
এগিয়ে দেয়। অল্প করে খেয়ে
রেহা
আবার
শুয়ে পড়ে। ঘুমানোর আগে
মাসুদ বলে,
.
– আপনিও শুয়ে পড়ুন
.
মাসুদ হেসে মাথা নাড়ায়।
রেহা পাশ
ফিরে শোয়। রুমের লাইট বন্ধ
করে মাসুদ
রেহার পাশে বসে থাকে।
জানালার
ফাঁকে রাতের শহরের ঢাকা
দেখা যায় ওই।
আকাশভরা তারা ,নিচের
রাস্তায় গাড়ির
হেডলাইটগুলোর ছুটোছুটি আর
অন্ধকারের
মাঝে বিস্ময়ভরা চোখে
তাকিয়ে থাকে
মাসুদ। এই যান্ত্রিক শহরে
কেমন একা
বোধ করছে আজ ও!
.
সারারাত ঘুমায়নি মাসুদ।
শেষরাতের
দিকে আবার প্রচন্ড জ্বর উঠে
রেহার।
মাসুদ তাড়াতাড়ি করে এক
বালতি পানি
এনে রেহার মাথায় ঢালে
অল্প করে আর
ভীষণ গরম কপালে হাত বুলিয়ে
দেয়। যেন
রেহা শরীরের উত্তাপগুলো
শুষে নিতে
চাইছে। তখন প্রায় ভোর হয়ে
গিয়েছে।
সূর্যের আলো একটু করে
ছড়াচ্ছে
চারিদিকে। মাসুদ রেহার
কপালে
পানি ঢেলে চলেছে। একসময়
রেহার জ্বর
কমে যায় একটু করে।
.
রেহা চোখ মেলে অবাক
চোখে
তাকিয়ে
দেখে একটি অনিদ্রারত রুগ্ন
মুখ ওর দিকে
তাকিয়ে প্রশান্তির হাসি
হাসছে।
রেহা জিজ্ঞেস করে,
.
– আপনি ঘুমাননি?
-– ইয়ে মানে, ঘুম আসছিলো
না , তাই জেগে
ছিলাম
– ও!!
– -খুব ক্ষুধা লেগেছে আপনার,
হু?
– হ্যা!!
-– একটু অপেক্ষা করুন।
.
মাসুদের দিকে চেয়ে রেহা
অবাক হয়
ভীষণ ।
.
মাসুদ তাড়াতাড়ি করে
আনাড়ি হাতে
বানানো ব্রেকফাস্ট নিয়ে
এগিয়ে যায়
রেহার দিকে। হাতে খাবার
তুলে
নিয়েও কি মনে করে আবার
রেখে দেয়
প্লেটে। তারপর, প্লেটটা
এগিয়ে দেয়
রেহার দিকে অবনত চোখে।
রেহা
প্লেটটা হাতে নিয়ে
অভিমানের সুরে বলে,
.
– খাইয়ে দিবেন না?
.
অবাক চোখে রেহার দিকে
তাকায়
মাসুদ! দেখে, মিটিমিটি
হাসছে মেয়েটা।
রেহা আবার জিজ্ঞেস করে,
.
– কি, খাইয়ে দিবেন না
আমাকে?
.
মাসুদের মুখে তখন বিশ্বজয়ের
হাসি।
.
সকালের সোনালী রোদ
জানালার ফাঁক
গলে তখন আছড়ে পড়ছে দুজনের
গায়ে।
হাসিতে উদ্ভাসিত চারিদিক।
ভোরের
আলো সাক্ষী হয়ে রইলো
একটি নতুন
সূর্যোদয়ের আর একজোড়া
প্রাণের
ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ
হওয়ার ইতিহাসে,

সর্বশেষ সংবাদ